সোমবার, ০২ মার্চ ২০২৬,

জামায়াতের প্রার্থীর হঠাৎ মুক্তিযোদ্ধা পদবি ব্যবহার!

জামায়াতের প্রার্থীর হঠাৎ মুক্তিযোদ্ধা পদবি ব্যবহার!

বগুড়া-১ (সারিয়াকান্দি-সোনাতলা) আসনের জামায়াত মনোনীত প্রার্থী মো. শাহাবুদ্দিন হঠাৎ করে নিজেকে মুক্তিযোদ্ধা পরিচয়ে নির্বাচনী প্রচারণা করছেন। এতে বিক্ষুব্ধ মুক্তিযোদ্ধারা সহকারী রিটার্নিং অফিসারের কাছে লিখিত অভিযোগ করেছেন।

এছাড়া এ আসনের প্রধান এজেন্ট জামায়াত কর্মীকে হত্যার হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে। এ নিয়ে দুপক্ষের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছে।

উপজেলা প্রশাসন বলছে, অভিযোগের ভিত্তিতে রিটার্নিং কর্মকর্তা আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বগুড়া-১ আসনে জামায়াত প্রার্থী মো. শাহাবুদ্দিন স্বাধীনতা যুদ্ধে অংশগ্রহণের কোনো প্রমাণ নেই। এরপরও তিনি নির্বাচনের প্রচারণায় নিজেকে মুক্তিযোদ্ধা পরিচয় দিচ্ছেন। ব্যানার, পোস্টার, লিফলেট সর্বত্রই নামের আগে মুক্তিযোদ্ধা ব্যবহার করছেন। এতে নির্বাচনি এলাকার মুক্তিযোদ্ধাদের মাঝে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।

এ ব্যাপারে বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ সারিয়াকান্দি উপজেলা সংসদ বগুড়া-১ আসনের জামায়াত মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী মো. শাহাবুদ্দিনের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছেন।

বুধবার বিকালে উপজেলা সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে অভিযোগটি করেছেন বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদের উপজেলা ইউনিট কমান্ডের আহ্বায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. মহসিনুর রহমান এবং সদস্য সচিব বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. শাহজাহান আলী।

মিথ্যা বীর মুক্তিযোদ্ধা পদবি ব্যবহার করে নির্বাচনি আচরণবিধি লঙ্ঘন প্রসঙ্গে অভিযোগটি দায়ের করা হয়েছে।

অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জামায়াত মনোনীত প্রার্থী মো. শাহাবুদ্দিন নিজেকে বীর মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে প্রচার করে নির্বাচনি আচরণবিধি লঙ্ঘন করেছেন। মূলত তিনি মুক্তিযোদ্ধা নন। মুক্তিযুদ্ধের সপক্ষে তার কোনো প্রমাণও নেই।

সারিয়াকান্দি উপজেলা এবং বগুড়া জেলায় মুক্তিযোদ্ধার চূড়ান্ত তালিকা বা অন্য কোথাও তার নামে কোনো প্রমাণ নেই। তিনি নির্বাচনি সভায়, মাইকিং, লিফলেট এবং ব্যানারে বীর মুক্তিযোদ্ধা পদবি ব্যবহার করে নির্বাচনি আচরণবিধি লঙ্ঘন করেছেন।

এ বিষয়ে জামায়াত প্রার্থী মো. শাহাবুদ্দিন বলেন, তিনি একজন প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা। মুক্তিযোদ্ধার সপক্ষে তার সব প্রমাণ রয়েছে। উপজেলার বড় বড় মুক্তিযোদ্ধারা তার পক্ষে কথা বলবেন। সংসদ নির্বাচন ঘিরে তাকে রাজনৈতিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন করতে এ অভিযোগ করা হয়েছে। গত আওয়ামী লীগ সরকার ১৭ বছরে তার নামে শতাধিক মামলা দিয়েছে। তিনি একজন প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা হলেও তাকে সব সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে। বিষয়টির তিনি তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান।

এদিকে একই দিনে এ আসনের জামায়াত মনোনীত প্রার্থীর প্রধান নির্বাচনি এজেন্ট শাহীন মিয়া সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তাসহ বিভিন্ন দপ্তরে বিএনপি কর্মীর বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছেন। অভিযোগে তিনি উল্লেখ করেছেন, উপজেলার হাটশেরপুর ইউনিয়নের জিলাদুল মেম্বারের ছেলে আকিবুর রহমান মিল্টন এবং বিএনপির নেতা আব্দুল ওয়াজেদ মেম্বার গত ২২ জানুয়ারি জামায়াতের সমাবেশে দাঁড়িয়ে জামায়াতের কর্মীদের নির্বাচনের দিন গরুর সঙ্গে জবাই করার হুমকি দেন।

এছাড়া গত ২৩ জানুয়ারি জামায়াতের হাটশেরপুর ইউনিয়ন সভাপতি মতিয়ার রহমান মাস্টারের বাড়ির সামনে গিয়ে ‘মতিয়ারের দুই গালে জুতা মারো তালে তালে’ বলে উসকানিমূলক স্লোগান দেয়।

এ বিষয়ে বিএনপির নেতা ওয়াজেদ মেম্বার বলেন, বিষয়টি একেবারেই মিথ্যা, তিনি এর কিছুই জানেন না। অভিযোগটি রাজনৈতিক। আপনারা বিষয়গুলো তদন্ত করে দেখতে পারেন।

বগুড়ার সারিয়াকান্দি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা সুমাইয়া ফেরদৌস বলেন, অভিযোগ দুটি আমরা হাতে পেয়েছি। দুটি অভিযোগই বগুড়া জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে পাঠানো হয়েছে। তদন্তসাপেক্ষে তিনি প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন। এ বিষয়ে সবাইকে শান্ত থাকতে বলা হয়েছে।

 


আরআই