শিশুদের জন্য নিরাপদ বাংলাদেশ চাই
- মতামত, লেখা
- প্রকাশ: ১৩ জানুয়ারী, ২০২৬ ২১:১৭ পি এম
লেখক: মীর মোঃ রাকিব হাসান
দেশের বিভিন্ন প্রান্তে শিশুদের প্রতি সহিংসতা ও নিষ্ঠুর আচরণের ঘটনা আশঙ্কাজনক হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে। শিশুর প্রতি যেকোনো ধরনের মানসিক বা শারীরিক নির্যাতন শুধু তাদের শৈশবকেই ক্ষতবিক্ষত করে না; দীর্ঘমেয়াদে তাদের ব্যক্তিত্ব, আচরণ এবং মানসিক বিকাশে গভীর ও স্থায়ী নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।
মনোবিজ্ঞানীদের মতে,
“শিশুর ভুলকে শাস্তির মাধ্যমে নয়; বোঝাপড়া, ধৈর্য ও সঠিক নির্দেশনার মাধ্যমে সংশোধনই সর্বোত্তম উপায়।”
— প্রথম আলো, ০৪ অক্টোবর ২০২৫-এ প্রকাশিত প্রতিবেদনে উল্লেখ
কিন্তু বাস্তবতা হলো—এই মানবিক দৃষ্টিভঙ্গির বিপরীতে আমাদের সমাজে শিশু নির্যাতনের চিত্র দিন দিন আরও ভয়াবহ হয়ে উঠছে।
বাংলাদেশে শিশু নির্যাতনের ভয়াবহ পরিসংখ্যান (২০২৫)
২০২৫ সালের প্রথম আট মাসে প্রকাশিত বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থার তথ্যে উঠে এসেছে চরম উদ্বেগজনক চিত্র—
৩৯০ জন কন্যাশিশু ধর্ষণ বা দলবদ্ধ ধর্ষণের শিকার হয়েছে।
এর মধ্যে ৪৩ জন দলবদ্ধ ধর্ষণের এবং ২৯ জন প্রতিবন্ধী শিশু।
১৫ জন শিশু ধর্ষণের পর হত্যার শিকার হয়েছে এবং ৫ জন আত্মহত্যা করেছে।
১৩৪ জন কন্যাশিশু ধর্ষণের চেষ্টার শিকার।
৩৪ জন শিশু অপহরণ বা পাচারের শিকার হয়েছে—যাদের মধ্যে ১৮ জনকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে।
প্রথম আট মাসেই ১০৪ জন কন্যাশিশু আত্মহত্যা করেছে এবং ৮৩ জন খুন হয়েছে।
বহু ঘটনায় অপরাধীরা মাদকাসক্ত, পর্নোগ্রাফিতে আসক্ত অথবা ভুক্তভোগীর পরিচিত ব্যক্তি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ রয়েছে।
এই পরিসংখ্যান শুধু সংখ্যা নয়—প্রতিটি সংখ্যার পেছনে রয়েছে একটি ধ্বংসপ্রাপ্ত শৈশব, একটি ভাঙা পরিবার এবং একটি আহত ভবিষ্যৎ।
আইন ও সালিশ কেন্দ্র (এএসকে)-এর তথ্যেও উদ্বেগজনক চিত্র
আইন ও সালিশ কেন্দ্র (এএসকে)-এর তথ্য অনুযায়ী—
জানুয়ারি থেকে জুলাই ২০২৫ পর্যন্ত ৩০৬ জন মেয়ে শিশু ধর্ষণের শিকার হয়েছে।
একই সময়ে ২০২৪ সালে এই সংখ্যা ছিল ১৭৫—অর্থাৎ প্রায় ৭৫ শতাংশ বৃদ্ধি।
একই সময়ে ৩০ জন ছেলে শিশুও ধর্ষণের শিকার হয়েছে।
১২৯টি ধর্ষণের চেষ্টার ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে, যেখানে আগের বছর ছিল ৬৬টি।
এই তথ্যগুলো স্পষ্টভাবে প্রমাণ করে—বাংলাদেশে শিশুদের নিরাপত্তা আজ চরম ঝুঁকির মুখে।
মানবিকতা ও দায়িত্ববোধ: শিশুর নিরাপত্তা আমাদের সবার দায়িত্ব
শিশুর প্রতি নিষ্ঠুরতা কেবল আইনগত অপরাধ নয়; এটি মানবিকতা ও নৈতিকতার সম্পূর্ণ পরিপন্থী। একটি সুস্থ, শিক্ষিত ও নৈতিক সমাজ গড়তে হলে শিশুদের নিরাপত্তা, সম্মান, ভালোবাসা ও সুরক্ষা নিশ্চিত করতেই হবে।
সরকারি পর্যায়ে শিশু সুরক্ষায় আইন প্রয়োগ আরও কঠোর করা, দ্রুত বিচার নিশ্চিত করা এবং সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধির ওপর জোর দেওয়া জরুরি। একই সঙ্গে পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, গণমাধ্যম ও সমাজের প্রতিটি স্তরের মানুষকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।
কারণ, আজকের শিশুরাই আগামী দিনের ভবিষ্যৎ।
শিশুর প্রতি নিষ্ঠুরতা নয়, তাদের নিরাপত্তাই হোক আমাদের প্রথম অঙ্গীকার।
- জুলাই অভ্যুত্থানে অংশগ্রহণকারীদের দায়মুক্তি অধ্যাদেশ অনুমোদন
- বগুড়ার দুপচাঁচিয়ার শ্রেষ্ঠ অধ্যক্ষ রঞ্জন কুমার পাল
- মহেশখালীতে হচ্ছে জাপানি মডেলে ‘আদর্শ মৎস্যগ্রাম’
- বগুড়ায় পুলিশ পরিচয়ে প্রকৌশলীকে অপহরণ, যুবদল নেতাকর্মীসহ গ্রেপ্তার ৩
- বগুড়ায় খালেদা জিয়ার রুহের মাগফিরাত কামনায় ফার্টিলাইজার অ্যাসোসিয়েশনের দোয়া
- জয়পুরহাটে মেধাবী শিক্ষার্থীদের মাঝে ছাত্রশিবিরের শীতবস্ত্র বিতরণ
- নির্বাচনে ভুয়া তথ্য মোকাবিলায় জাতিসংঘের সহায়তা চান প্রধান উপদেষ্টা
- বগুড়া জেলার শ্রেষ্ঠ মাদরাসা প্রধান হাফিজুর রহমান
- শিশুদের জন্য নিরাপদ বাংলাদেশ চাই
- জি আই পণ্য ‘কচুর লতি’র নাম বদলে ‘পাঁচবিবির কচুর লতি’ করার দাবি